বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১২ নভেম্বর পালন করা হয় বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস—যে দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির পরও নিউমোনিয়া এখনো শিশু, বয়স্ক এবং দূর্বল ইমিউন সিস্টেমসম্পন্ন মানুষের জন্য এক বড় ঝুঁকি। বাংলাদেশে অবস্থাও উদ্বেগজনক। আইসিডিডিআরবি-এর ২০২১ সালের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে ৫ বছরের কম বয়সি অন্তত ২৪,০০০ শিশুর মৃত্যু নিউমোনিয়ার কারণে ঘটে। অনেকেই মনে করেন নিউমোনিয়া কেবল “ঠান্ডা লাগা” বা শীতের কারণে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—নিউমোনিয়া মূলত শরীরের দুর্বল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। মানসিক চাপ, দূষণ, পুষ্টিহীনতা, ঘুমের অভাব ও জীবনযাপনের অসামঞ্জস্যতার কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেলে সাধারণ সংক্রমণও সহজে ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
নিউমোনিয়ার অন্তর্নিহিত কারণসমূহ
নিউমোনিয়ার তাৎক্ষণিক কারণ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া হলেও, রোগটি কেন ঘনঘন বা গুরুতর হয়—তার মূল ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে শরীরের ভেতরকার বিভিন্ন ভারসাম্যহীনতায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
সাম্প্রতিক গবেষণায়, বিশেষত NIH-এ চীনা গবেষক Yu Huang Meng–এর কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখানো হয়েছে—শরীরের নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করাই নিউমোনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
চিকিৎসার পাশাপাশি নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ফুসফুস ও ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে পারে:
বাজারে পাওয়া অনেক মুরগি, গরু বা ছাগলের মাংসে স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক বা কেমিক্যাল ফিড ব্যবহার করা হয়—যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে।
পরিবর্তে বেছে নিন:
ইমিউন সাপোর্টের জন্য খাদ্য তালিকায় রাখুন—রসুন, হলুদ, কোল্ড-প্রেস নারিকেল তেল, শাকসবজি, ফল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার।
নিম্নোক্ত প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক:
এছাড়া ভিটামিন ডি এবং জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করাও অত্যন্ত জরুরি।
এগুলো ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস আমাদের শিখিয়ে দেয়—প্রতিরোধ মানে কেবল ওষুধ নয়; বরং পুষ্টি, জীবনযাপন, পরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমন্বিত যত্ন।
শরীরকে সঠিক পরিবেশ দিলে ইমিউন সিস্টেম নিজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সুতরাং, অযথা ভয় নয়—জ্ঞান, সচেতনতা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অভ্যাস গ্রহণ করাই নিউমোনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
— অধ্যাপক ড. মজিবুল হক (PhD, ND, FDM)
American Wellness Center, Dhaka